যেনে নিন সহবাস ও সহবাসের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বস্তুর মাসআলা সম্পর্কে

Share:

আসসলামুয়ালাইম

পরম করুনাময়,অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ পাকের নামে শুরু করছি।
কেমন আছেন সবাই?আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি… সহবাস ও সহবাসের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বস্তুর বর্ণনা নিয়ে আশা করি আপনাদের কে ভালো লাগবে,,,!

মাসআলাঃ-

নিজের স্ত্রী এবং শরীয়ত অনুমােদিত দাসীর মল্লারে অথবা হায়েয ও নেফাসের অবস্থায় সহবাস করা হারাম।

মাসআলা

লেওয়াতাত বা পুংমৈথুন হারাম। লেওয়াতাত হারাম হওয়াকে অস্বীকারকারী কাফের।
মাসআলা ও বেগানা নারী বা দাড়িবিহীন বালকের প্রতি যৌন কামনার সাথে দৃষ্টিপাত
করা হারাম। তদ্রপ বেগানা নারীর গায়ে যৌন কামনার সাথে হাত দেওয়া এবং যৌন কামনা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে পদচারণা করা হারাম।
হাদিসে বর্ণিত আছে যে, চোখের যেনা- দেখা, হাতের যেনা- ধরা এবং মুখের যেনা হলাে এই বিষয়ে আলােচনা করা, আর লজ্জাস্থান এ সকল কাজের সত্যতা প্রমাণ করে। অথবা মিথ্যা সাব্যস্থ করে।
মাসআলী ও অন্যের সতর (যে অঙ্গ ঢেকে রাখা ফরয) এর দিকে দৃষ্টিপাত করা হারাম।
অবশ্য প্রয়ােজনের সময় প্রয়ােজন মাফিক দেখা জায়েজ আছে। যেমন ও ডাকজার, হাজাম, ধাত্রী পিচকারীর মাধ্যমে চিকিৎসাকারীর জন্য প্রয়ােজন মাফিক সতর দেখা জায়েজ আছে।
পুরুষের জন্য অপর পুরুষের সতর ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করা জায়েজ আছে। অর্থাৎ নাভি হতে হাটু পর্যন্ত দেখবেনা। তদ্রপ এক মাহিলার জন্য অপর মহিলার নাভি হতে হাটু পর্যন্ত দেখা জায়েজ নেই। তাছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখা জায়েজ আছে।
এমনিভাবে মহিলাদের জন্য যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি না হলে বেগানা পুরুষের সতর ব্যতীত শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দেখা জায়েয আছে। উভ্েজনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকলে মােটেও দেখবে না। পুরুষ লােকের জন্য মহিলাদের দেহের কোন অংশই দেখা জায়েজ নেই।
যদি কোন মহিলাকে নেহায়েত প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে যেতে হয়, তবে যৌন কামনার ভাব না থাকলে সে মহিলার হস্তদ্বয় এবং মুখমণ্ডল দেহের কোন অংশই দেখা জায়েজ নেই।
যদি কোন মহিলাকে নেহায়েত প্রয়ােজনে ঘরের বাহিরে যেতে হয়, তবে যৌন কামনার ভাব না থাকেলে সে মহিলার হস্তদ্বয় এবং মুখমণ্ডল দেখা জায়েজ আছে। যৌন কামনার ভাব নিয়ে দেখা জায়েজ নেই।
কোরআন মজিদে আল্লাহ পাক বলেন, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা যেন (বেগানা মহিলার প্রতি দৃষ্টিপাত থেকে) নিজেদের চক্ষু অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন বেগানা পুরুষের দর্শন হতে স্বীয় চক্ষুকে বন্ধ রাখে এবং নিজেদেরকে লজ্জা স্থানের হেফাজত করে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি যৌন কামনার ভাব নিয়ে বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, কেযামতের দিন তার চোখে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে।
মনিবের অনুমতি ছাড়া তার সাথে আযল করা জায়েয নেই। অবশ্য নিজের বাদির সাথে তার অনুমতি ছাড়াও আযল করা জায়েয আছে।

মাসআলা

যদি কেউ ক্রয়, দান অথবা উত্তরাধিকার সুত্রে কিংবা অন্য কোনাে উপায়ে কোন বাদির মালিক হয় তবে তার মালিকানাধীনে উক্ত বাদির এক হায়েজ পূর্ণ না হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা জয়েজ হবে না। এমনকি সহবাসের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী কোন কাজ করাও তার জন্যে জায়েজ হবে না।
আর যদি বাদি নাবালিকা কিংবা বৃদ্ধা হয় তবে তার সাথে একমাস পর
সহবাস করা জায়েজ হবে।

মাসআলাঃ-

যদি কারাে মালিকানায় এমন দুটি বাদি তাকে যাদেরকে একই সাথে বিবাহ করা যায় না (যেমন দু বোন) তাদের একজনের সাথে সহবাস করলে অপরজন তার উপর হারাম হয়ে যাবে।

আশা করি আপনাদের ভাল লেগেছে…।

সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ।
দেখা হবে পরের পোস্টে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে !
ধন্যবাদ সবাইকে…

The post যেনে নিন সহবাস ও সহবাসের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বস্তুর মাসআলা সম্পর্কে appeared first on Tipsjano24.com.



News alo

No comments